গাজা পুনর্গঠনের অর্থ আদায়ে ইসরায়েলকে বাধ্য করা উচিত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীর পুনর্গঠনের জন্য অর্থ দিতে ইসরায়েলকে বাধ্য করা উচিত বলে মনে করেন সৌদি আরবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান প্রিন্স তুর্কি আল ফয়সাল।

সৌদি আরবের এই প্রভাবশালী কূটনীতিক দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তিনি মনে করেন, ইসরায়েল বারবার গাজা শহর ধ্বংস করেছে এবং তার পুনর্নির্মাণের দায়ভারও তাদের নেওয়া উচিত।

রোববার (২ মার্চ) আরব নিউজের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স প্রোগ্রাম ‘ফ্র্যাঙ্কলি স্পিকিং’-এ উপস্থিত হয়ে প্রিন্স তুর্কি এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি যে, শুধু গাজা উপত্যকা নয়, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের পুনর্গঠনের জন্যও তহবিল থাকা উচিত এবং ইসরায়েলকে সেই তহবিলে অর্থ দিতে বাধ্য করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, আমরা যখনই গাজা বা পশ্চিম তীর পুনর্গঠন করি, ইসরায়েল এসে সেগুলো ভেঙে ফেলে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে এই পরিস্থিতির একটি স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

প্রিন্স তুর্কি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে যেন পুনর্গঠন প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ না হয়, তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি।

তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পর্যায়ে কেবল গাজা নয়, পুরো ফিলিস্তিনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। এটাই একমাত্র উপায় যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব যে পুনর্গঠিত অবকাঠামো ধ্বংস হবে না এবং ফিলিস্তিন একটি কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

গাজার যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনের সংগ্রাম শেষ হয়নি বলে তিনি মনে করেন। নেতানিয়াহু সরকারের নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসরায়েল পশ্চিম তীরেও একই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।

তারা পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবির খালি করছে এবং বাসিন্দাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করছে। এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এক ধরনের জাতিগত নিধন। তারপরও ইসরায়েল পার পেয়ে যাচ্ছে এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো নিন্দা জানাচ্ছে না।

গাজার সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর পুনর্গঠনের জন্য নতুন নীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ইসরায়েল বারবার যে পরিকাঠামো ধ্বংস করছে, সেটির পুনর্নির্মাণে তাদের অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, গাজার জন্য স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা সফল হবে না। এটি কেবল ফিলিস্তিনের জন্য একটি স্বাধীন ও স্বশাসিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে।

পশ্চিম তীরের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, গাজার যুদ্ধবিরতির পরও ফিলিস্তিনের সংগ্রাম শেষ হয়নি। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, নেতানিয়াহু সরকার গাজায় যা করেছিল, পশ্চিম তীরেও একই কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রতিবাদ ও সংহতি জানানো হচ্ছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (৪ মার্চ) কায়রোতে আরব লীগের একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে। এই সম্মেলন থেকে কী ফলাফল আসবে, সে বিষয়ে তিনি আশাবাদী হলেও সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

গাজার ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, হামাসের মধ্যে এমন কিছু সদস্য রয়েছেন যারা গাজার জনগণের প্রকৃত কল্যাণ চান। তাদেরই শাসনভার গ্রহণ করা উচিত।

লেবাননের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন এবং বলেন, লেবাননের জনগণ কোনো বাহ্যিক রাজনৈতিক শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হতে চায় না। তারা চায় একটি স্বাধীন ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র। এছাড়াও লেবাননের বিষয়ে, প্রিন্স তুর্কি দেশটির নতুন সরকার নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, সৌদি আরব লেবাননের নতুন সরকারের প্রতি সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top