ভারতকে রাষ্ট্র হিসেবে আমরা শত্রু মনে করি না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ভারতের জনগণের সঙ্গে আমাদের আগামীতেও বন্ধুত্ব হবে। বিদেশে আমাদের বন্ধু থাকবে, প্রভু নয়। ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ একসূত্রে গাঁথা উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সব আন্দোলন সংগ্রাম ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে।
আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ভাষা আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার তিনটি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনটি শাসক গোষ্ঠীর পতন হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খান, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ এবং সবশেষে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাসে নিকৃষ্টতম স্বৈরাচার খুনি হাসিনার পলায়নের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতন হয়। এই পতনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্তি লাভ করে।
‘২০২৪-এ গণঅভ্যুত্থান হয়েছে বিপ্লব নয়’ উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ মানে হচ্ছে যাকে বাঁধা দেওয়া যায় না। বাংলাদেশের জনগণ ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সেটি বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। দুই হাজারের অধিক মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ আহত-পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। তবুও ছাত্রজনতাকে দাবিয়ে রাখা যায়নি। এই গণঅভ্যুত্থান এককভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এদেশের ছাত্র-জনতার।
অনেক সত্য ইতিহাস কেন লেখা হয় না- এমন প্রশ্ন রেখে গোলাম পরওয়ার বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড কারা?- এটাও কেউ কেউ ছিনতাই করার চেষ্টা করছে। অনেক বড় দলের নেতারা বলে, ‘এই আন্দোলনে আমরা সম্পৃক্ত নই’। আর তাদের ছাত্র সংগঠন দাবি করে, তাদের নেতৃত্বে বিপ্লব হয়েছে! অথচ যারা বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছে সেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, এই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টার মাইন্ড শহিদ ও আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারী সবাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাক্ষী এই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টার মাইন্ড কারা। রামদা দলের হাত থেকে ইতিহাস বিকৃত করা বন্ধ করতে এদেশের ছাত্র-জনতা আবারও অপ্রতিরোধ্য হয়ে দাঁড়াবে।